বাজারে যখন ডালের দাম কমতে শুরু করেছে, টিসিবি সে সময় বেশি দামে ডাল কেনা শুরু করেছে। যারা কম দামে ডাল সরবরাহ করতে চেয়েছিল, তাদের বাদ দিয়ে বেশি দামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই ডাল কেনা হচ্ছে। দেশে খুচরা বাজারে এখন ৮০ টাকা কেজি দরে ডাল পাওয়া যাচ্ছে। আর সরকার সেই ডালই কিনছে ১০০ টাকায়। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আমদানি করে নয়, স্থানীয় বাজার থেকে সেই ডাল সংগ্রহ করে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) দিচ্ছে। এর ফলে সরকারের অর্থ গচ্চা গেলেও লাভবান হচ্ছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি। দানিয়া জামান অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের...
কিডনি রোগে আক্রান্ত ১ কোটি ৮০ লাখ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে গতকাল বুধবার রক্ত পরিশোধন (ডায়ালাইসিস) করা হচ্ছিল গৃহবধূ রুখসানা বেগমের (৩৫)। রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার এই গৃহবধূর দুটি কিডনিই বিকল। তাঁর স্বামী নূরুল আমিন জানান, ২০০৭ সাল থেকে রুখসানার ডায়ালাইসিস করানো হচ্ছে। আগে বেসরকারি হাসপাতালে করালেও খরচে কুলাতে না পারায় সরকারি হাসপাতালে এসেছেন। তিনি জানান, এখানকার সেবার মানও ভালো। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের হিসাবে, দেশে রুখসানার মতো দুটি কিডনি বিকল হওয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। কিডনির কোনো না কোনো রোগে ভুগছে এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ। তবে এ নিয়ে...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
বান্দরবানে বাতিল ইজারা গোপনে পুনর্বহাল?
বান্দরবানে ইজারা বাতিল হওয়া রাবার ও হর্টিকালচারের ভূমি আবার ইজারা দেওয়া শুরু হয়েছে। সরকারি নির্দেশ না থাকা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসক নিজেই কিছুটা গোপনীয়তার সঙ্গে তা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট উপমন্ত্রী বলেছেন, ঊর্ধ্বতন মহল থেকে এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং স্থানীয় প্রশাসন তা করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। জেলার বাইরের মানুষের কাছে দেওয়া ভূমির ইজারা বাতিলের কাজ শেষ হওয়ার আগেই পুনর্বহাল কার্যক্রমে স্থানীয় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এটি ভূমিবিরোধকে আরও জটিল করবে বলে মনে করেন স্থানীয় নেতারা। বান্দরবান জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
মালিক-শ্রমিকদের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

রাজধানীর বাস টার্মিনাল ও বাসস্ট্যান্ডগুলোতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মালিক-শ্রমিক সমিতির চাঁদাবাজি চলছেই। গত এক বছরে চাঁদা আদায়ের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়ে বেশ কয়েকবার সংঘাত হয়েছে। চাঁদাবাজির প্রতিবাদে গত ছয় মাসে মালিকেরা দুবার রাজধানীতে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার মিরপুর এলাকায় জোর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করে কাউন্টারভিত্তিক বাস পরিচালনাকারীরা গতকাল বুধবার থেকে টানা ধর্মঘটের ডাক দেন, যদিও তা প্রথম দিনই প্রত্যাহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিকে বড়...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
নভেম্বরে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা
এ বছর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ২০১০ সালের অষ্টম শ্রেণীর বার্ষিক ও বৃত্তি পরীক্ষা একীভূত করে এসএসসি পরীক্ষার আদলে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এসব পরীক্ষায় প্রায় ১৯ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা যায়, দেশের আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অষ্টম শ্রেণীতে স্কুল ও মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত প্রতি বিষয়ে...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
র্যাব সদস্য ১০ মাস নিখোঁজ
র্যাবের সদস্য নূর নবী চৌধুরী প্রায় সাড়ে ১০ মাস নিখোঁজ। তাঁকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তাঁর মা ও স্ত্রী। গতকাল বুধবার ঢাকায় তাঁরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, র্যাব-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে তাঁরা ঘুরেছেন, আকুতি জানিয়েছেন নূর নবীকে উদ্ধারের জন্য। কিন্তু আশানুরূপ কোনো সহযোগিতা পাননি। কনস্টেবল নূর নবীর স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারের অভিযোগ, র্যাব-৩-এর তত্কালীন পরিচালক লে. কর্নেল জাকির হোসেনের যোগসাজশে তাঁর স্বামীকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে। এ বিষয়ে চেষ্টা করেও জাকিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি এখন আর র্যাবে নেই বলে জানা গেছে।...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
১৮ মার্চ আ.লীগের দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর শুরু
১৮ মার্চ থেকে সারা দেশে মাসব্যাপী সাংগঠনিক সফরে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্য দিয়ে সাত বিভাগের বিভিন্ন জেলায় একযোগে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হবে। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতারা ১৬টি দলে বিভক্ত হয়ে সব সাংগঠনিক জেলায় সাধারণ সভা-সমাবেশ ও বর্ধিত সভায় অংশ নেবেন। গতকাল বুধবার ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। এর আগে সাংগঠনিক সফরের ব্যাপারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। তখন সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৈয়দা...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
২৭ মার্চ চট্টগ্রামে বিএনপির প্রথম বিভাগীয় সমাবেশ
সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ২৭ মার্চ চট্টগ্রামে জনসভা করবে বিএনপি। এর মধ্য দিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে জনসংযোগ শুরু করবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পর্যায়ক্রমে অন্য বিভাগীয় শহরে জনসভা করবেন তিনি। দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিরোধী দল। ১৮টি দলে ভাগ হয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলায় জেলায় সফর করবেন। বিভাগীয় পর্যায়ে জনসভার পর ঢাকায় মহাসমাবেশের প্রস্তুতি রয়েছে দলটির। গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে দলের চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারা বৈঠক করেন। এরপর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সভার...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
গাছের পরনে যেন নতুন পোশাক

গান চোখে দেখার নয়, কানে শোনার। কিন্তু কবিগুরুর সেই গানটি ‘বনে বনে ফুল ফুটেছে দোলে নবীন পাতা...’ এখন দিব্যি চোখে পড়ে; এমনকি এই কৃত্রিম মহানগরেও। যত ব্যস্ত আর প্রকৃতিবিমুখই হন না কেন, আপনারও চোখে পড়েছে নিশ্চয়ই। আমগাছের তো পাতাই ঢাকা পড়েছে মুকুলের সমারোহে। আর পথের মাঝখানের বিভক্তি বরাবর যে গাছপালা এত দিন হতশ্রী অবস্থায় প্রেতের মতো চেহারা নিয়ে বিব্রত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, তারা যেন ঝলমল করছে খুশিতে। বসন্ত এসে তার বিপুল প্রাণশক্তিতে জাগিয়ে তুলেছে ম্রিয়মাণ প্রকৃতিকে। সাজিয়েছে রূপে, সৌরভে। শিমুল-পলাশ-অশোক-কাঞ্চনের রক্তিম ছটা যদিও সুলভ নয় এখানে, তা সত্ত্বেও শুধু নবীন পল্লবেই...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে মামলার আলামত
ঢাকার সাভারের আশুলিয়া থানায় দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার আলামত রাখা হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে এসব আলামত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ এসব আলামতই মামলার অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে আদালতে উপস্থাপিত হয়ে থাকে। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, হত্যা, আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা, মারামারিসহ বিভিন্ন মামলার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের অংশ হিসেবে পুলিশকে বিভিন্ন ধরনের আলামত সংরক্ষণ করতে হয়। আদালতে মামলার অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে এসব আলামত অনেক জরুরি। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিচারের জন্য এসব আলামত আদালতে পাঠানো হয়। অথচ এসব...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
ভাষা ব্যবহারের ওপর আইনী খবরদারী অথবা ফ্যাসিবাদের নতুন ধরণ ফরহাদ মজহার
আমি ভয় পেয়েছি। বাংলা একাডেমী নাকি আইন করবে। সেই আইন মোতাবেক উকিল মোক্তার আইন আদালত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কথা মাথায় রেখে আমাদের এখন লেখালিখি করতে হবে। কাগজে পত্রে খবরে গুজবে কানে এসেছে যে বাংলা একাডেমী যাদের শায়েস্তা করতে চায় তারা হচ্ছে তরুণ লেখক। তাদের ক্রিয়াপদ ব্যবহার এখন যাঁরা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সরকারি পণ্ডিত তাদের ভালো লাগে না। কী রকম? বঙ্কিমবাবু লিখতেন, ‘করিয়াছিলাম’, রবি ঠাকুর শিখিয়েছিলেন ‘করেছিলাম’। এখন পোলাপান কখনো ‘করছিলাম’, কখনো ‘করসিলাম’ এমনকি স্থানভেদে নাকি ‘করশিলাম’ লিখছে। তারা ‘পাবো’-কে লেখে ‘পামু’, ‘ভেঙেচুরে’-কে লেখে ‘ভাইঙ্গাচুইরা’, ‘করে’-কে লেখে ‘কইর্যা’ ইত্যাদি। খুবই খারাপ কাজ। জঘন্য। বাংলা ভাষার ইজ্জত গেল। তরুণ কবি সাহিত্যিকদের মধ্যে যাঁরা বাংলা ক্রিয়াপদ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করেন তাঁদের প্রায় সকলকেই আমি চিনি এবং আগ্রহের সঙ্গেই তাঁদের পরীক্ষানিরীক্ষার আমি খবর রাখি। তাঁদের সব ফলাফল আমাকে সমর্থন করতে হবে এমন কোনো কথা নাই। কিন্তু তাদের চেষ্টার সাহিত্যিক, নান্দনিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্বকে খাটো করে দেখার কোনো উপায় নাই। কিন্তু এখন তাঁদের ঠ্যাঙানোর কথা শুনছি। অতএব তাদের শায়েস্তা করার জন্য এখন পুলিশ দারোগা র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন আইন আদালত দরকার। আইন করতে হবে। আলবৎ। এইসকল পোংক্টাদের শায়েস্তা না করলে ‘প্রমিত’ বাংলার পবিত্রতা বিনষ্ট হবে।
আইন করে ক্রিয়াপদ ব্যবহারের শাসন কায়েম করবার খবরটি পত্রিকাতে দেখেছি বলে মনে হয়। কিন্তু হাতের কাছে রেফারেন্স নাই। তবে ‘দেশ’ টেলিভিশন ফেব্রুয়ারির ২৩ তারিখে তাদের ২, ৫, ৭, ৯, ১১ ও ১টার প্রচারনায় বিষয়টি নিয়ে এসেছে। তারা জানিয়েছে, ক্রিয়াপদের ক্ষেত্রে কথ্যরূপ ব্যবহারের প্রবণতা তরুণ কিছু সাহিত্যিকের লেখায় প্রবলভাবে দেখা যায়। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে সরব বিতর্ক। বাংলা একাডেমী ভাষার এ ধরণের ব্যবহারকে নীতিবিরুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে আইন করার চিন্তাভাবনা করছে। যেটা বুঝতে পেরেছি সেটা হোল তরুণ সাহিত্যিকরা ভাষার ক্রিয়াপদ নিয়ে যে পরীক্ষানিরীক্ষা করছেন সেখানেই আপত্তি। সুনির্দিষ্ট ভাবে তরুণদের ক্রিয়াপদ ব্যবহারের বিরুদ্ধেই সরকারি পণ্ডিতদের নালিশ।
বাংলা একাডেমী এখন একটা নতুন কাজ পেতে যাচ্ছে। ভাষার ওপর নজরদারি রাখা। শামসুজ্জামান খান বলেছেন, “ভাষা পরিস্থিতিতে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলা একাডেমীর একটা খসড়া আইন আমরা তৈরি করেছি। সে আইনে এই সব বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। সেই আইনটি সরকারের মাধ্যমে পার্লামেন্টে পেশ করার পর যদি অনুমোদিত হয়ে আসে তাহলে এই ক্ষেত্রে আমরা যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারব।” আমরা কে কীভাবে কথা বলব, লিখব… কবিতা, গদ্য, প্রবন্ধ, উপন্যাস ইত্যাদি লিখব তার জন্য আইনের খসড়া করছে বাংলা একাডেমী। সেটা পাশ করবে জাতীয় সংসদ আর সেটা প্রয়োগ করবে বিচার ও নির্বাহী বিভাগ। দারুণ খবর!
আমি অন্যত্র আমার লেখালিখিতে ‘ডিজ্যুস সংস্কৃতি’ নামে গোলকায়নের যাঁতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশে এক ধরণের বিজ্ঞাপনী ভাষার বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছিলাম। আমার সেই আপত্তি এখনো পুরা মাত্রায় বহাল আছে। সেই আপত্তির মর্মটা ভাষার পরীক্ষানিরীক্ষা নিয়ে নয়, বরং বাংলাদেশের এক গুচ্ছ প্রতিভাধর তরুণের রাজনৈতিক অসচেতনতা। আপত্তি কথাটাও ঠিক নয়। এটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লড়াই সংগ্রাম বা প্রথাগত অর্থে শ্রেণিসংগ্রামের গতি-প্রকৃতি অনুধাবনের সঙ্গে যুক্ত। সমাজের সংবেদনশীল এবং সৃষ্টিশীল তরুণদের বহুজাতিক কম্পানির বিজ্ঞাপন বানানোর কাজে মনেপ্রাণে নিবেদিত হয়ে যাওয়া দেখে ভয় পেয়ে নালিশটুকু জানিয়েছিলাম। তাদের খুবই কম দরে বিক্রি হয়ে যাওয়াটা আমার কাছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সমাজতাত্ত্বিক উপাদান হিসাবে হাজির হয়েছিল।
আমি উন্নাসিক নই, একটু আধটু কাব্য কি শিল্পকলা নিয়ে নাড়াচাড়া করি বলে তরুণদের সৃষ্টিশীল প্রতিভা সম্পর্কে সন্দেহ নাই আমার। কিন্তু খুবই কম দামে ইউনিলিভার, বাংলা লিংক, গ্রামীণ ফোন ইত্যাদি মোবাইল কম্পানিসহ বিভিন্ন বহুজাতিক কম্পানির কাছে তরুণদের একটা জেনারেশনের প্রায় সকলেরই বিক্রি হয়ে যাওয়াকে আমি নিছকই পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সবকিছুই পণ্য হয়ে যাওয়া বলে মেনে নিতে পারছিলাম না। সৃষ্টিশীলতার আবেগ, সংবেদনা ও আগাম দৃষ্টিপাতের ক্ষমতা এমন কিছু ব্যাপারে যাকে পুঁজি হয়তো কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু কখনোই হজম করতে পারে না। পুঁজির এই অপারগতার কারণেই প্রতিটি সমাজেই বৈপ্লবিক রূপান্তর সবসময়ই একটা সম্ভাবনা হয়ে থেকে যায়। কবিতা, সাহিত্য, চিত্রকলা, সিনেমা, গান—সৃষ্টির এইসকল ক্ষেত্রগুলো পুঁজির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এমন সব গলি ঘুপচির ফাঁদ পাতে কিম্বা গেরিলা হামলার ক্ষেত্র বানিয়ে রাখে যে কখন কোন বোমা কীভাবে ফাটবে সেটা আগাম আন্দাজ করা যায় না।
যদি সৃষ্টিশীল তরুণরা জীবিকা হিসাবে কম্পানির বিজ্ঞাপন তৈরির কাজকেই বেছে নেয় তখন সেই সমাজ সম্পর্কে চিন্তিত হবার যথেষ্ট কারণ থাকে বৈকি। নিজের মর্যাদাকে সংবেদনশীল তরুণ যখন ছোট করতে কুণ্ঠা বোধ করে না তখন তার সমাজতাত্ত্বিক দিকটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। যখন ডিজ্যুস সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠছিলাম তখনো মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকার আসেনি, কিন্তু এই সকল বিজ্ঞাপন যে সকল গণমাধ্যমগুলো ছাপছিলো তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র এবং ইসলামি সন্ত্রাসীদের আখড়া হিসাবে তুমুল প্রচার চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছিল। পরদেশী হস্তক্ষেপের পাঁয়তারা চলছিল। তথাকথিত ‘সুশীল সমাজ’ গুটিকয়েক বিদেশী কম্পানি ও কয়েকজন সামরিক অফিসার মিলে ঔপনিবেশিক ইংরেজ রাজত্বে যেমন একজন গভর্নর দিয়ে একটি দেশ শাসিত হোত, তেমনি বিশ্বব্যাংকের একজন কর্মচারীকে ধরে নিয়ে এসে ক্ষমতায় বসিয়ে দিল। দুই বছর বাংলাদেশ তারা শাসনও করে গেল। এনজিওগুলো বাংলাদেশে গণতন্ত্র নয়, ‘সুশাসন’ চায়। সমাজে সংবেদনশীল সৃষ্টিশীল তরুণদের বিকিয়ে যাওয়া দেখে বোঝা যায় একটি দেশের রাজনৈতিক পরাধীনতার মাত্রা কতদূর হতে পারে। ডিজ্যুস সংস্কৃতি তার আগাম লক্ষণ বলেই আমি শনাক্ত করেছিলাম।
ডিজ্যুস সংস্কৃতির ভাষা বিজ্ঞাপন কর্মকাণ্ড ইত্যাদির মধ্যে বুশ-ব্লেয়ারের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের ভাষা ও বয়ান নিহিত রয়েছে। সে কারণেও আমি তার বিরোধিতা করেছি। এখনও করি। যেমন, ‘হারিয়ে যাও।’ তরুণদের তো এখন হারিয়ে যাবার কথা নয়, বরং প্যালেস্টাইন, ইরাক, আফগানিস্তানের ঘটনায় রুখে দাঁড়াবার কথা। কিম্বা ‘বদলে যাও, বদলে দাও।’ ভাবলাম বেশ তো দারুণ বিপ্লবী বিজ্ঞাপন। কিন্তু কী রকম বদলাবে মানুষ! বাসে উঠলে মহিলাদের জন্য সিট ছেড়ে দিতে হবে। ব্যবহার বদলালেই বাংলাদেশের পরিবর্তন হয়ে যাবে। বহুজাতিক কম্পানি আমাদের তেল গ্যাস কয়লা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে, ‘অবাধ বাজার’ ব্যবস্থার নামে অর্থনৈতিক লুণ্ঠন চলছে—এই সবের বিরুদ্ধে লড়াই করবার দরকার নাই। গার্মেন্টের মেয়েরা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে মরছে, ছাদ ধসে গিয়ে মাটিচাপা পড়ে কুকুর-বেড়ালের মতো মরে যাচ্ছে কিশোর বয়েসী ছেলেমেয়েগুলো, জীবনের কোনো স্বাদই তারা নিতে পারেনি। কিন্তু এদের জন্য কিছুই করবার দরকার নাই। ‘বদলে যাও বদলে দাও।’ কে কাকে বদলাবে? একজন মহিলার জন্য সিট ছেড়ে দিলেই কি ‘বদলে যাও বদলে দাও’ হয়ে যাবে?
বাংলা একাডেমী এখন আইন করে কী ভাষায় আমার লিখব কী ভাষায় কথা বলব ঠিক করে দেবে। ঘটনা বহুদূর গড়িয়ে গেছে। একে এখন আর ডিজ্যুস বলা যাচ্ছে না। তরুণরাও কম যায় না। তারা এটাকে ‘ফ্যাসিবাদ’ বলছে। ফেইসবুকে তাদের একটি ব্লগ দেখলাম ‘ভাষা-ফ্যাসিবাদীদের ঠেকাও’। এক তরুণ কবি আমাকে তাঁর ভাষায় বললেন, ‘হালারা কেডা? আমি কেমনে কথা কমু না কমু কেমনে লিখুম না লিখুম হেইডা ঠিক কইরবার হুকুমদার তাদের বানাইলো কেডা?’ বাংলা একাডেমী ইতোমধ্যেই আইনের খসড়া তৈরি করেছে, আগেই বলেছি। সেটা তারা সংসদে নিয়ে যাবে। সংসদে যেহেতু আওয়ামী লীগই সর্বেসর্বা অতএব বাংলাভাষা রক্ষা করবার বাঙালি জাতীয়তাবাদী জিহাদ অনায়াসেই সফল হবে এটা আন্দাজ করা যায়।
‘হালারা কেডা? আমি কেমনে কথা কমু না কমু কেমনে লিখুম না লিখুম হেইডা ঠিক কইরবার হুকুমদার তাদের বানাইলো কেডা?’ কথাটা ঠিক। ভাষার একটা নিজস্বতা আছে। যে জায়গার ওপর ভাষা দাঁড়ায় তার একদিকে আছে তার সামাজিক বা সামষ্টিক দিক, অন্যদিকে যিনি সেই সামাজিক ভাষাটা ব্যবহার করেন সেটা তিনি তাঁর মতো করেই ব্যবহার করেন। অবস্থা বুঝে, উদ্দেশ্য অনুযায়ী। ভাষা সেই দিক থেকে একান্তই তাঁর নিজের জিনিস। এই দিক থেকে তার একটা ‘ব্যক্তিগত’ বা ‘সৃষ্টিশীল’ দিক আছে। অর্থাৎ সামাজিক ব্যক্তি সমাজে থেকে সমাজে বাস করতে গিয়ে সামাজিক ভাষাটা তাঁর নিজের মতো করেই ব্যবহার করেন। সমাজ ও ব্যক্তির দাগচিহ্নের পর দাঁড়িয়ে ভাষার এই ব্যবহার ভাষাকে সবসময়ই সপ্রাণ রাখে। ভাষা এই সামাজিকতা ও ব্যক্তিকতার টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে নিজের গতিতে বদলায়। সেখানে কোনো আইন নাই; পুলিশ, দারোগা, র্যাপিড একশান ব্যাটালিয়ন বা বাংলা একাডেমী নাই। সেখানে যদি কারো সর্দারি আদৌ মানতেই হয় তবে তাঁরা সৃষ্টিশীল কবি ও সাহিত্যিক। বিশেষত যাঁরা সজ্ঞানে ও সচেতন ভাবে ভাষা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। দুমড়েমুচড়ে উল্টেপাল্টে ভাষার সম্ভাবনা ও সীমার নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষাই সাহিত্যের কাজ। পরীক্ষা-নিরীক্ষার অতি অল্প অংশই হয়তো টেঁকে, বাকিটা ভাষার ইতিহাস হয়ে থেকে যায়। কিন্তু সমাজের এই সৃষ্টিশীল উদযাপন ও কর্মযোগকে সমূলে খুন করবার আওয়াজ যখন ওঠে তখন আতংকিত না হয়ে পারা যায় না।
ভাষার ক্ষেত্রে যাকে আমরা সামাজিক বা সামষ্টিক নির্মাণ বলছি তার একটা ইতিহাস থাকে। আছে। অবশ্যই। ঠিক যেমন যিনি বিশেষ স্থানে ও সময়ে তাঁর নিজের মতো করে ভাষা ব্যবহার করছেন তাঁরও একটা ইতিহাস আছে। সমাজ যেমন হঠাৎ হাজির হয়নি, ঠিক তেমনি ব্যক্তি—এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তরুণ কথাওয়ালারা—তাঁরাও হঠাৎ করে উদয় হননি। তাঁরাও ইতিহাসেরই তৈরি জিনিস। উভয়ের ইতিহাস পণ্ডিতদের গবেষণার বিষয় হতে পারে। তাঁদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যদি স্বেচ্ছাচার মনে হয় তাহলে আমরা নিজ নিজ রুচি ও অভ্যাসের জায়গায় দাঁড়িয়ে আপত্তি জানাতে পারি। তাঁদের লেখালিখি পরিহার করতে, এমনকি লিখে বিরোধিতাও করতে পারি। কিন্তু কে কীভাবে ভাষা ব্যবহার করবে তার আইন করার এই চিন্তাটা এতই উদ্ভট, বিকৃত ও ভয়ানক যে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই সজ্ঞান নাগরিকদের কর্তব্য।
‘ভাষা-ফ্যাসিবাদীদের ঠেকাও’ ব্লগে দেখলাম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ-র মস্তো ছবি। তাঁর ছবি ফেইসবুকে জুড়ে দিয়ে তরুণরা বোঝাতে চাইছেন কায়েদে আজম যেমন রাষ্ট্রভাষা হিসাবে উর্দুকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, এখনকার বাংলাদেশে সেই কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ভূত ফিরতিবার সদর্পে হাজির হয়েছে। তবে ইতিহাস যেহেতু দ্বিতীয়বার পুনরাবৃত্তির সময় ‘প্রহসন’ বা মশকরা হয়ে হাজির হয়, এই ক্ষেত্রেও তামাশার মিশাল আছে। জিন্নাহ একমাত্র উর্দুকেই রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন শাসক শ্রেণী এবং তাদের তাঁবেদাররা তকাকথিত ‘প্রমিত ভাষা’-কেই লেখালিখি সাহিত্য চর্চা রেডিও টেলিভিশনে কথা বলবার একমাত্র ভাষা হিসাবে আইন করে চাপিয়ে দিতে চাইছে। বাংলা সাহিত্যের এখনকার ভাষা বা ‘আধুনিক’ কলকাতাকেন্দ্রিক বাংলা ভাষা ছাড়া কেউ নাকি কথা বলতে পারবে না। রেডিও টেলিভিশনে, পত্রপত্রিকাতেও এই ‘প্রমিত’ ভাষাই চলবে।
আমি তরুণদের পক্ষে ভাষা-ফ্যাসিবাদীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেই আপাতত সাক্ষী মানব। রবীন্দ্রনাথ পরিষ্কারই বলেছেন যাকে আমরা সাহিত্যের ভাষা বলি আর সরকারি পণ্ডিতরা যাকে ‘প্রমিত ভাষা’ বলছেন তার ‘সূত্রপাত’ হয়েছে বিদেশের ফরমাশে এবং তার সূত্রধর হচ্ছে সংস্কৃত পণ্ডিত। রবীন্দ্রনাথ বলছেন, বাংলাভাষার সঙ্গে এঁদের সম্পর্ক হচ্ছে ‘ভাসুর-ভাদ্র বউয়ের’ মতো। বাংলা ভাষা একটি সজীব প্রাণবন্ত ভাষা। কিন্তু “এই সজীব ভাষা তাঁদের কাছে ঘোমটার ভিতরে আড়ষ্ট হইয়া ছিল, সেই জন্য ইহাকে তাঁরা আমল দিলেন না। তাঁরা সংস্কৃত ব্যাকরণের হাতুড়ি পিটিয়া নিজের হাতে এমন একটা পদার্থ খাড়া করিলেন যাহার কেবল বিধিই আছে গতি নাই।”
বাংলা ভাষার এই পশ্চাত ইতিহাস নিয়ে আমার রক্তের দাগ মুছে রবীন্দ্র পাঠ বইতে কিছুটা আলোচনা করেছি। এখানে পুনরাবৃত্তি করব না। শুধু মনে করিয়ে দেব বাংলা ভাষার বিকাশ ঘটানোর যে পথটা রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন সেটা হচ্ছে সাহেবদের ঔরসে এবং ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের গর্ভে যে বাংলা তৈরি হয়েছে তার বিপরীতে যাত্রা করা। মুখের ভাষার যে সজীব ও প্রাণবন্ত বাংলা সেই দিকেই ভাষাচর্চার অভিমুখ স্থাপন করা। রবীন্দ্রনাথ নিজেও তাই করেছেন। দুই একজন অনুকরণপ্রিয় দুর্বল লেখকের কথা বাদ দিয়ে এখনকার তরুণরা ক্রিয়াপদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষার বাইরে কিছু করেছেন বলে আমার মনে হয় নি। অনেকের চোখে সেটা খানিক স্বেচ্ছাচারিতা মনে হতে পারে কিন্তু ক্রিয়েটিভ লেখার ক্ষেত্রে সেটা অপরাধ নয়।
এটাও মনে রাখা দরকার রবীন্দ্রনাথ এবং রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কলকাতা হয়ে যে রূপ নিয়ে আমাদের হাতে এসেছে, তাকেই সরকারি পণ্ডিতরা এখন ‘প্রমিত বাংলা’ বলে শিরোপা দিচ্ছেন, অথচ সেটা আমাদের অনেকেরই মাতৃভাষা নয়। যেমন আমি নোয়াখালির ছেলে, নোয়াখালির ভাষাই আমার মাতৃভাষা। নোয়াখালির ভাষায় বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো অবশ্যই গান, কবিতা, কাহিনী রচিত হয়। সেইগুলোও সাহিত্য। নেয়াখালির ক্রিয়াপদ ‘প্রমিত বাংলা’-র ক্রিয়াপদের নিয়মে চলে না। বাংলাভাষা যত বেশি সাধারণ মানুষের ভাষা হয়ে উঠবে ততই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিনের ভাষা থেকে নিজের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে। ক্রিয়াপদের ব্যবহারও বাদ যাবে না। কতটুকু সেই চেষ্টা সফল হবে সেটা নির্ভর করবে বাংলা ভাষার কবি-সাহিত্যিকদের শক্তির ওপর। সেই শক্তির চর্চা তো তরুণদের সাহসী প্রয়াসের মধ্যেই আগে ধরা পড়বে। বিদ্যমান ভাষার যে সামাজিক বা সামষ্টিক দিক তার সীমানা প্রসারিত করলে কতদূর সেটা লংঘন বলে পরিগণিত হবে সেটা আইন করে ঠিক করে দেবার বিষয় নয়।
তরুণদের ভাষায় ক্রিয়াপদ ব্যবহারে স্বেচ্ছাচারিতা থাকলেই তা সাহিত্যে গৃহীত হয়ে যাবে তারও কোনো কথা নাই। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষার এই অধিকার মানতে হবে—এমনকি সৃষ্টিশীল স্বেচ্ছাচারিতার মূল্যও সাহিত্যের দিক থেকে অপরিসীম। যাঁরা সাহিত্যের ইতিহাস জানেন তাঁদের কাছে এইসব নতুন কোনো কথা নয়। বাংলা একাডেমীকে এই সব উদ্ভট চিন্তা বাদ দিতে হবে। বাংলা ভাষা কী রূপ নিয়ে দাঁড়াবে সেটা কাউকে আইন করে ঠিক করে দিতে হবে না। কেউ যেন স্বেচ্ছাচারিতাকেই সাহিত্যের স্বাধীনতা বলে ভুল না করে তার জন্য পরামর্শ দিতে পারে বাংলা একাডেমী।
আইন করে ভাষা ব্যবহার শাসন করবার এই উদ্ভট চিন্তা ফ্যাসিবাদী কিনা সেই তর্কটা করা দরকার। কিন্তু গালি দেবার জন্য শব্দ ব্যবহার করলে আমরা ভুল করব। নিঃসন্দেহে ফ্যাসিবাদের ভিত্তি ভাষা ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ ও আত্ম পরিচয়ের রাজনীতি নিয়ে অন্ধ আবেগ। ফ্যাসিবাদ শুধু একনায়কতন্ত্র নয়, বরং এমন এক একনায়কী ক্ষমতা যার পেছনে গণসমর্থন থাকে। বাংলাদেশ সেই ধরণের বিপজ্জনক খাদে পড়েছে। ফ্যাসিবাদকে চিনবার আরো একটি সহজ পথ হচ্ছে একধরণের বিশুদ্ধতার ধারণা। নাৎসি জার্মানি তাদের রক্তের বিশুদ্ধতা নিয়ে দর্প করে ফ্যাসিবাদের একটা ঐতিহাসিক রূপ আমাদের দেখিয়েছে। ভাষার বিশুদ্ধতার ধারণাকে সেই দিক থেকে ফ্যাসিবাদ থেকে আলাদা করতে পারি না। বাংলা ভাষার তথাকথিত ‘প্রমিত রূপ’ বা বিশুদ্ধ ধারণার মধ্যে ভাষা ব্যবহারের অন্য সকল সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়াকে তরুণদের এই অর্থেই ফ্যাসিবাদ মনে হয়েছে। আসলেই, একে রুখে দেওয়াই এখনকার কাজ।
[সূত্রঃ বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কম ১০/০৩/১০]
আইন করে ক্রিয়াপদ ব্যবহারের শাসন কায়েম করবার খবরটি পত্রিকাতে দেখেছি বলে মনে হয়। কিন্তু হাতের কাছে রেফারেন্স নাই। তবে ‘দেশ’ টেলিভিশন ফেব্রুয়ারির ২৩ তারিখে তাদের ২, ৫, ৭, ৯, ১১ ও ১টার প্রচারনায় বিষয়টি নিয়ে এসেছে। তারা জানিয়েছে, ক্রিয়াপদের ক্ষেত্রে কথ্যরূপ ব্যবহারের প্রবণতা তরুণ কিছু সাহিত্যিকের লেখায় প্রবলভাবে দেখা যায়। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে সরব বিতর্ক। বাংলা একাডেমী ভাষার এ ধরণের ব্যবহারকে নীতিবিরুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে আইন করার চিন্তাভাবনা করছে। যেটা বুঝতে পেরেছি সেটা হোল তরুণ সাহিত্যিকরা ভাষার ক্রিয়াপদ নিয়ে যে পরীক্ষানিরীক্ষা করছেন সেখানেই আপত্তি। সুনির্দিষ্ট ভাবে তরুণদের ক্রিয়াপদ ব্যবহারের বিরুদ্ধেই সরকারি পণ্ডিতদের নালিশ।
বাংলা একাডেমী এখন একটা নতুন কাজ পেতে যাচ্ছে। ভাষার ওপর নজরদারি রাখা। শামসুজ্জামান খান বলেছেন, “ভাষা পরিস্থিতিতে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলা একাডেমীর একটা খসড়া আইন আমরা তৈরি করেছি। সে আইনে এই সব বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। সেই আইনটি সরকারের মাধ্যমে পার্লামেন্টে পেশ করার পর যদি অনুমোদিত হয়ে আসে তাহলে এই ক্ষেত্রে আমরা যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারব।” আমরা কে কীভাবে কথা বলব, লিখব… কবিতা, গদ্য, প্রবন্ধ, উপন্যাস ইত্যাদি লিখব তার জন্য আইনের খসড়া করছে বাংলা একাডেমী। সেটা পাশ করবে জাতীয় সংসদ আর সেটা প্রয়োগ করবে বিচার ও নির্বাহী বিভাগ। দারুণ খবর!
আমি অন্যত্র আমার লেখালিখিতে ‘ডিজ্যুস সংস্কৃতি’ নামে গোলকায়নের যাঁতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশে এক ধরণের বিজ্ঞাপনী ভাষার বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছিলাম। আমার সেই আপত্তি এখনো পুরা মাত্রায় বহাল আছে। সেই আপত্তির মর্মটা ভাষার পরীক্ষানিরীক্ষা নিয়ে নয়, বরং বাংলাদেশের এক গুচ্ছ প্রতিভাধর তরুণের রাজনৈতিক অসচেতনতা। আপত্তি কথাটাও ঠিক নয়। এটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লড়াই সংগ্রাম বা প্রথাগত অর্থে শ্রেণিসংগ্রামের গতি-প্রকৃতি অনুধাবনের সঙ্গে যুক্ত। সমাজের সংবেদনশীল এবং সৃষ্টিশীল তরুণদের বহুজাতিক কম্পানির বিজ্ঞাপন বানানোর কাজে মনেপ্রাণে নিবেদিত হয়ে যাওয়া দেখে ভয় পেয়ে নালিশটুকু জানিয়েছিলাম। তাদের খুবই কম দরে বিক্রি হয়ে যাওয়াটা আমার কাছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সমাজতাত্ত্বিক উপাদান হিসাবে হাজির হয়েছিল।
আমি উন্নাসিক নই, একটু আধটু কাব্য কি শিল্পকলা নিয়ে নাড়াচাড়া করি বলে তরুণদের সৃষ্টিশীল প্রতিভা সম্পর্কে সন্দেহ নাই আমার। কিন্তু খুবই কম দামে ইউনিলিভার, বাংলা লিংক, গ্রামীণ ফোন ইত্যাদি মোবাইল কম্পানিসহ বিভিন্ন বহুজাতিক কম্পানির কাছে তরুণদের একটা জেনারেশনের প্রায় সকলেরই বিক্রি হয়ে যাওয়াকে আমি নিছকই পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সবকিছুই পণ্য হয়ে যাওয়া বলে মেনে নিতে পারছিলাম না। সৃষ্টিশীলতার আবেগ, সংবেদনা ও আগাম দৃষ্টিপাতের ক্ষমতা এমন কিছু ব্যাপারে যাকে পুঁজি হয়তো কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু কখনোই হজম করতে পারে না। পুঁজির এই অপারগতার কারণেই প্রতিটি সমাজেই বৈপ্লবিক রূপান্তর সবসময়ই একটা সম্ভাবনা হয়ে থেকে যায়। কবিতা, সাহিত্য, চিত্রকলা, সিনেমা, গান—সৃষ্টির এইসকল ক্ষেত্রগুলো পুঁজির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এমন সব গলি ঘুপচির ফাঁদ পাতে কিম্বা গেরিলা হামলার ক্ষেত্র বানিয়ে রাখে যে কখন কোন বোমা কীভাবে ফাটবে সেটা আগাম আন্দাজ করা যায় না।
যদি সৃষ্টিশীল তরুণরা জীবিকা হিসাবে কম্পানির বিজ্ঞাপন তৈরির কাজকেই বেছে নেয় তখন সেই সমাজ সম্পর্কে চিন্তিত হবার যথেষ্ট কারণ থাকে বৈকি। নিজের মর্যাদাকে সংবেদনশীল তরুণ যখন ছোট করতে কুণ্ঠা বোধ করে না তখন তার সমাজতাত্ত্বিক দিকটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। যখন ডিজ্যুস সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠছিলাম তখনো মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকার আসেনি, কিন্তু এই সকল বিজ্ঞাপন যে সকল গণমাধ্যমগুলো ছাপছিলো তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র এবং ইসলামি সন্ত্রাসীদের আখড়া হিসাবে তুমুল প্রচার চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছিল। পরদেশী হস্তক্ষেপের পাঁয়তারা চলছিল। তথাকথিত ‘সুশীল সমাজ’ গুটিকয়েক বিদেশী কম্পানি ও কয়েকজন সামরিক অফিসার মিলে ঔপনিবেশিক ইংরেজ রাজত্বে যেমন একজন গভর্নর দিয়ে একটি দেশ শাসিত হোত, তেমনি বিশ্বব্যাংকের একজন কর্মচারীকে ধরে নিয়ে এসে ক্ষমতায় বসিয়ে দিল। দুই বছর বাংলাদেশ তারা শাসনও করে গেল। এনজিওগুলো বাংলাদেশে গণতন্ত্র নয়, ‘সুশাসন’ চায়। সমাজে সংবেদনশীল সৃষ্টিশীল তরুণদের বিকিয়ে যাওয়া দেখে বোঝা যায় একটি দেশের রাজনৈতিক পরাধীনতার মাত্রা কতদূর হতে পারে। ডিজ্যুস সংস্কৃতি তার আগাম লক্ষণ বলেই আমি শনাক্ত করেছিলাম।
ডিজ্যুস সংস্কৃতির ভাষা বিজ্ঞাপন কর্মকাণ্ড ইত্যাদির মধ্যে বুশ-ব্লেয়ারের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের ভাষা ও বয়ান নিহিত রয়েছে। সে কারণেও আমি তার বিরোধিতা করেছি। এখনও করি। যেমন, ‘হারিয়ে যাও।’ তরুণদের তো এখন হারিয়ে যাবার কথা নয়, বরং প্যালেস্টাইন, ইরাক, আফগানিস্তানের ঘটনায় রুখে দাঁড়াবার কথা। কিম্বা ‘বদলে যাও, বদলে দাও।’ ভাবলাম বেশ তো দারুণ বিপ্লবী বিজ্ঞাপন। কিন্তু কী রকম বদলাবে মানুষ! বাসে উঠলে মহিলাদের জন্য সিট ছেড়ে দিতে হবে। ব্যবহার বদলালেই বাংলাদেশের পরিবর্তন হয়ে যাবে। বহুজাতিক কম্পানি আমাদের তেল গ্যাস কয়লা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে, ‘অবাধ বাজার’ ব্যবস্থার নামে অর্থনৈতিক লুণ্ঠন চলছে—এই সবের বিরুদ্ধে লড়াই করবার দরকার নাই। গার্মেন্টের মেয়েরা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে মরছে, ছাদ ধসে গিয়ে মাটিচাপা পড়ে কুকুর-বেড়ালের মতো মরে যাচ্ছে কিশোর বয়েসী ছেলেমেয়েগুলো, জীবনের কোনো স্বাদই তারা নিতে পারেনি। কিন্তু এদের জন্য কিছুই করবার দরকার নাই। ‘বদলে যাও বদলে দাও।’ কে কাকে বদলাবে? একজন মহিলার জন্য সিট ছেড়ে দিলেই কি ‘বদলে যাও বদলে দাও’ হয়ে যাবে?
বাংলা একাডেমী এখন আইন করে কী ভাষায় আমার লিখব কী ভাষায় কথা বলব ঠিক করে দেবে। ঘটনা বহুদূর গড়িয়ে গেছে। একে এখন আর ডিজ্যুস বলা যাচ্ছে না। তরুণরাও কম যায় না। তারা এটাকে ‘ফ্যাসিবাদ’ বলছে। ফেইসবুকে তাদের একটি ব্লগ দেখলাম ‘ভাষা-ফ্যাসিবাদীদের ঠেকাও’। এক তরুণ কবি আমাকে তাঁর ভাষায় বললেন, ‘হালারা কেডা? আমি কেমনে কথা কমু না কমু কেমনে লিখুম না লিখুম হেইডা ঠিক কইরবার হুকুমদার তাদের বানাইলো কেডা?’ বাংলা একাডেমী ইতোমধ্যেই আইনের খসড়া তৈরি করেছে, আগেই বলেছি। সেটা তারা সংসদে নিয়ে যাবে। সংসদে যেহেতু আওয়ামী লীগই সর্বেসর্বা অতএব বাংলাভাষা রক্ষা করবার বাঙালি জাতীয়তাবাদী জিহাদ অনায়াসেই সফল হবে এটা আন্দাজ করা যায়।
‘হালারা কেডা? আমি কেমনে কথা কমু না কমু কেমনে লিখুম না লিখুম হেইডা ঠিক কইরবার হুকুমদার তাদের বানাইলো কেডা?’ কথাটা ঠিক। ভাষার একটা নিজস্বতা আছে। যে জায়গার ওপর ভাষা দাঁড়ায় তার একদিকে আছে তার সামাজিক বা সামষ্টিক দিক, অন্যদিকে যিনি সেই সামাজিক ভাষাটা ব্যবহার করেন সেটা তিনি তাঁর মতো করেই ব্যবহার করেন। অবস্থা বুঝে, উদ্দেশ্য অনুযায়ী। ভাষা সেই দিক থেকে একান্তই তাঁর নিজের জিনিস। এই দিক থেকে তার একটা ‘ব্যক্তিগত’ বা ‘সৃষ্টিশীল’ দিক আছে। অর্থাৎ সামাজিক ব্যক্তি সমাজে থেকে সমাজে বাস করতে গিয়ে সামাজিক ভাষাটা তাঁর নিজের মতো করেই ব্যবহার করেন। সমাজ ও ব্যক্তির দাগচিহ্নের পর দাঁড়িয়ে ভাষার এই ব্যবহার ভাষাকে সবসময়ই সপ্রাণ রাখে। ভাষা এই সামাজিকতা ও ব্যক্তিকতার টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে নিজের গতিতে বদলায়। সেখানে কোনো আইন নাই; পুলিশ, দারোগা, র্যাপিড একশান ব্যাটালিয়ন বা বাংলা একাডেমী নাই। সেখানে যদি কারো সর্দারি আদৌ মানতেই হয় তবে তাঁরা সৃষ্টিশীল কবি ও সাহিত্যিক। বিশেষত যাঁরা সজ্ঞানে ও সচেতন ভাবে ভাষা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। দুমড়েমুচড়ে উল্টেপাল্টে ভাষার সম্ভাবনা ও সীমার নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষাই সাহিত্যের কাজ। পরীক্ষা-নিরীক্ষার অতি অল্প অংশই হয়তো টেঁকে, বাকিটা ভাষার ইতিহাস হয়ে থেকে যায়। কিন্তু সমাজের এই সৃষ্টিশীল উদযাপন ও কর্মযোগকে সমূলে খুন করবার আওয়াজ যখন ওঠে তখন আতংকিত না হয়ে পারা যায় না।
ভাষার ক্ষেত্রে যাকে আমরা সামাজিক বা সামষ্টিক নির্মাণ বলছি তার একটা ইতিহাস থাকে। আছে। অবশ্যই। ঠিক যেমন যিনি বিশেষ স্থানে ও সময়ে তাঁর নিজের মতো করে ভাষা ব্যবহার করছেন তাঁরও একটা ইতিহাস আছে। সমাজ যেমন হঠাৎ হাজির হয়নি, ঠিক তেমনি ব্যক্তি—এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তরুণ কথাওয়ালারা—তাঁরাও হঠাৎ করে উদয় হননি। তাঁরাও ইতিহাসেরই তৈরি জিনিস। উভয়ের ইতিহাস পণ্ডিতদের গবেষণার বিষয় হতে পারে। তাঁদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যদি স্বেচ্ছাচার মনে হয় তাহলে আমরা নিজ নিজ রুচি ও অভ্যাসের জায়গায় দাঁড়িয়ে আপত্তি জানাতে পারি। তাঁদের লেখালিখি পরিহার করতে, এমনকি লিখে বিরোধিতাও করতে পারি। কিন্তু কে কীভাবে ভাষা ব্যবহার করবে তার আইন করার এই চিন্তাটা এতই উদ্ভট, বিকৃত ও ভয়ানক যে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই সজ্ঞান নাগরিকদের কর্তব্য।
‘ভাষা-ফ্যাসিবাদীদের ঠেকাও’ ব্লগে দেখলাম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ-র মস্তো ছবি। তাঁর ছবি ফেইসবুকে জুড়ে দিয়ে তরুণরা বোঝাতে চাইছেন কায়েদে আজম যেমন রাষ্ট্রভাষা হিসাবে উর্দুকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, এখনকার বাংলাদেশে সেই কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ভূত ফিরতিবার সদর্পে হাজির হয়েছে। তবে ইতিহাস যেহেতু দ্বিতীয়বার পুনরাবৃত্তির সময় ‘প্রহসন’ বা মশকরা হয়ে হাজির হয়, এই ক্ষেত্রেও তামাশার মিশাল আছে। জিন্নাহ একমাত্র উর্দুকেই রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন শাসক শ্রেণী এবং তাদের তাঁবেদাররা তকাকথিত ‘প্রমিত ভাষা’-কেই লেখালিখি সাহিত্য চর্চা রেডিও টেলিভিশনে কথা বলবার একমাত্র ভাষা হিসাবে আইন করে চাপিয়ে দিতে চাইছে। বাংলা সাহিত্যের এখনকার ভাষা বা ‘আধুনিক’ কলকাতাকেন্দ্রিক বাংলা ভাষা ছাড়া কেউ নাকি কথা বলতে পারবে না। রেডিও টেলিভিশনে, পত্রপত্রিকাতেও এই ‘প্রমিত’ ভাষাই চলবে।
আমি তরুণদের পক্ষে ভাষা-ফ্যাসিবাদীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেই আপাতত সাক্ষী মানব। রবীন্দ্রনাথ পরিষ্কারই বলেছেন যাকে আমরা সাহিত্যের ভাষা বলি আর সরকারি পণ্ডিতরা যাকে ‘প্রমিত ভাষা’ বলছেন তার ‘সূত্রপাত’ হয়েছে বিদেশের ফরমাশে এবং তার সূত্রধর হচ্ছে সংস্কৃত পণ্ডিত। রবীন্দ্রনাথ বলছেন, বাংলাভাষার সঙ্গে এঁদের সম্পর্ক হচ্ছে ‘ভাসুর-ভাদ্র বউয়ের’ মতো। বাংলা ভাষা একটি সজীব প্রাণবন্ত ভাষা। কিন্তু “এই সজীব ভাষা তাঁদের কাছে ঘোমটার ভিতরে আড়ষ্ট হইয়া ছিল, সেই জন্য ইহাকে তাঁরা আমল দিলেন না। তাঁরা সংস্কৃত ব্যাকরণের হাতুড়ি পিটিয়া নিজের হাতে এমন একটা পদার্থ খাড়া করিলেন যাহার কেবল বিধিই আছে গতি নাই।”
বাংলা ভাষার এই পশ্চাত ইতিহাস নিয়ে আমার রক্তের দাগ মুছে রবীন্দ্র পাঠ বইতে কিছুটা আলোচনা করেছি। এখানে পুনরাবৃত্তি করব না। শুধু মনে করিয়ে দেব বাংলা ভাষার বিকাশ ঘটানোর যে পথটা রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন সেটা হচ্ছে সাহেবদের ঔরসে এবং ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের গর্ভে যে বাংলা তৈরি হয়েছে তার বিপরীতে যাত্রা করা। মুখের ভাষার যে সজীব ও প্রাণবন্ত বাংলা সেই দিকেই ভাষাচর্চার অভিমুখ স্থাপন করা। রবীন্দ্রনাথ নিজেও তাই করেছেন। দুই একজন অনুকরণপ্রিয় দুর্বল লেখকের কথা বাদ দিয়ে এখনকার তরুণরা ক্রিয়াপদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষার বাইরে কিছু করেছেন বলে আমার মনে হয় নি। অনেকের চোখে সেটা খানিক স্বেচ্ছাচারিতা মনে হতে পারে কিন্তু ক্রিয়েটিভ লেখার ক্ষেত্রে সেটা অপরাধ নয়।
এটাও মনে রাখা দরকার রবীন্দ্রনাথ এবং রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কলকাতা হয়ে যে রূপ নিয়ে আমাদের হাতে এসেছে, তাকেই সরকারি পণ্ডিতরা এখন ‘প্রমিত বাংলা’ বলে শিরোপা দিচ্ছেন, অথচ সেটা আমাদের অনেকেরই মাতৃভাষা নয়। যেমন আমি নোয়াখালির ছেলে, নোয়াখালির ভাষাই আমার মাতৃভাষা। নোয়াখালির ভাষায় বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো অবশ্যই গান, কবিতা, কাহিনী রচিত হয়। সেইগুলোও সাহিত্য। নেয়াখালির ক্রিয়াপদ ‘প্রমিত বাংলা’-র ক্রিয়াপদের নিয়মে চলে না। বাংলাভাষা যত বেশি সাধারণ মানুষের ভাষা হয়ে উঠবে ততই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিনের ভাষা থেকে নিজের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে। ক্রিয়াপদের ব্যবহারও বাদ যাবে না। কতটুকু সেই চেষ্টা সফল হবে সেটা নির্ভর করবে বাংলা ভাষার কবি-সাহিত্যিকদের শক্তির ওপর। সেই শক্তির চর্চা তো তরুণদের সাহসী প্রয়াসের মধ্যেই আগে ধরা পড়বে। বিদ্যমান ভাষার যে সামাজিক বা সামষ্টিক দিক তার সীমানা প্রসারিত করলে কতদূর সেটা লংঘন বলে পরিগণিত হবে সেটা আইন করে ঠিক করে দেবার বিষয় নয়।
তরুণদের ভাষায় ক্রিয়াপদ ব্যবহারে স্বেচ্ছাচারিতা থাকলেই তা সাহিত্যে গৃহীত হয়ে যাবে তারও কোনো কথা নাই। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষার এই অধিকার মানতে হবে—এমনকি সৃষ্টিশীল স্বেচ্ছাচারিতার মূল্যও সাহিত্যের দিক থেকে অপরিসীম। যাঁরা সাহিত্যের ইতিহাস জানেন তাঁদের কাছে এইসব নতুন কোনো কথা নয়। বাংলা একাডেমীকে এই সব উদ্ভট চিন্তা বাদ দিতে হবে। বাংলা ভাষা কী রূপ নিয়ে দাঁড়াবে সেটা কাউকে আইন করে ঠিক করে দিতে হবে না। কেউ যেন স্বেচ্ছাচারিতাকেই সাহিত্যের স্বাধীনতা বলে ভুল না করে তার জন্য পরামর্শ দিতে পারে বাংলা একাডেমী।
আইন করে ভাষা ব্যবহার শাসন করবার এই উদ্ভট চিন্তা ফ্যাসিবাদী কিনা সেই তর্কটা করা দরকার। কিন্তু গালি দেবার জন্য শব্দ ব্যবহার করলে আমরা ভুল করব। নিঃসন্দেহে ফ্যাসিবাদের ভিত্তি ভাষা ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ ও আত্ম পরিচয়ের রাজনীতি নিয়ে অন্ধ আবেগ। ফ্যাসিবাদ শুধু একনায়কতন্ত্র নয়, বরং এমন এক একনায়কী ক্ষমতা যার পেছনে গণসমর্থন থাকে। বাংলাদেশ সেই ধরণের বিপজ্জনক খাদে পড়েছে। ফ্যাসিবাদকে চিনবার আরো একটি সহজ পথ হচ্ছে একধরণের বিশুদ্ধতার ধারণা। নাৎসি জার্মানি তাদের রক্তের বিশুদ্ধতা নিয়ে দর্প করে ফ্যাসিবাদের একটা ঐতিহাসিক রূপ আমাদের দেখিয়েছে। ভাষার বিশুদ্ধতার ধারণাকে সেই দিক থেকে ফ্যাসিবাদ থেকে আলাদা করতে পারি না। বাংলা ভাষার তথাকথিত ‘প্রমিত রূপ’ বা বিশুদ্ধ ধারণার মধ্যে ভাষা ব্যবহারের অন্য সকল সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়াকে তরুণদের এই অর্থেই ফ্যাসিবাদ মনে হয়েছে। আসলেই, একে রুখে দেওয়াই এখনকার কাজ।
[সূত্রঃ বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কম ১০/০৩/১০]
-- Delivered by Feed43 service
Posted in Uncategorized.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
নভেম্বরে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা
সমকাল প্রতিবেদক
আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ২০১০ সালের অষ্টম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা ও বৃত্তি পরীক্ষা একীভূত করে এসএসসি পরীক্ষার আদলে 'জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট' (জেএসসি) ও 'জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট' (জেডিসি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষায় প্রায় ১৯ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেবে। দেশের ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে.....
আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ২০১০ সালের অষ্টম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা ও বৃত্তি পরীক্ষা একীভূত করে এসএসসি পরীক্ষার আদলে 'জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট' (জেএসসি) ও 'জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট' (জেডিসি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষায় প্রায় ১৯ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেবে। দেশের ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে.....
বিস্তারিত
-- Delivered by Feed43 service
Posted in সমকাল.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
সারাদেশে উড়ছে স্বাধীন বাংলার পতাকা
সমকাল প্রতিবেদক
১১ মার্চ আজ। ১৯৭১ সালের অগি্নঝরা মার্চের এ দিনটিতে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন পালিত হয়েছে গোটা দেশে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন থেকে কেউই পিছু হটবেন না_ যূথবদ্ধ শপথ নিয়েছেন বীর বাঙালি।
সেদিন কেবল সামরিক দফতর ছাড়া গোটা প্রদেশের সর্বত্রই স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়েছে।.....
১১ মার্চ আজ। ১৯৭১ সালের অগি্নঝরা মার্চের এ দিনটিতে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন পালিত হয়েছে গোটা দেশে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন থেকে কেউই পিছু হটবেন না_ যূথবদ্ধ শপথ নিয়েছেন বীর বাঙালি।
সেদিন কেবল সামরিক দফতর ছাড়া গোটা প্রদেশের সর্বত্রই স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়েছে।.....
বিস্তারিত
-- Delivered by Feed43 service
Posted in সমকাল.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
বিমানবাহিনীর বার্ষিক মহড়ায় প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই জঙ্গি বিমানসহ বিপুল প্রতিরক্ষা সামগ্রী কেনা হবে
সমকাল ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার শিগগিরই বিপুল পরিমাণ প্রতিরক্ষা সামগ্রী ক্রয় করবে। এর মধ্যে রয়েছে জঙ্গি বিমান, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, হেলিকপ্টার, বিমান প্রতিরক্ষা রাডার এবং বিমানবাহিনীর বিভিন্ন অস্ত্র। তিনি গতকাল ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কুর্মিটোলা বিএএফ মূল ফাইটার ঘাঁটিতে বিমানবাহিনীর বার্ষিক শীতকালীন মহড়া 'উইনটেক্স-২০১০' উপলক্ষে.....
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার শিগগিরই বিপুল পরিমাণ প্রতিরক্ষা সামগ্রী ক্রয় করবে। এর মধ্যে রয়েছে জঙ্গি বিমান, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, হেলিকপ্টার, বিমান প্রতিরক্ষা রাডার এবং বিমানবাহিনীর বিভিন্ন অস্ত্র। তিনি গতকাল ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কুর্মিটোলা বিএএফ মূল ফাইটার ঘাঁটিতে বিমানবাহিনীর বার্ষিক শীতকালীন মহড়া 'উইনটেক্স-২০১০' উপলক্ষে.....
বিস্তারিত
-- Delivered by Feed43 service
Posted in সমকাল.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
বড়পুকুরিয়া : ক্ষতিগ্রস্তদের আমরণ অনশন শুরু
ভ্রাম্যমাণ/দিনাজপুর প্রতিনিধি/পার্বতীপুর সংবাদদাতা
ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনরা কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন শুরু করেছে। খনির প্রধান গেটের সামনের রাস্তায় শামিয়ানা টানিয়ে বুধবার সকাল ১১টায় ওই কর্মসূচি শুরু হয়। বৈগ্রাম, কাশিয়াডাঙ্গা, পাতরাপাড়া, কালুপাড়া, পাতিগ্রাম,
মৌপুকুর, জিগাগাড়ী, বাঁশপুকুর, কাজিপাড়া ও চৌহাটি গ্রামের প্রায় ৫০০
-->
ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনরা কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন শুরু করেছে। খনির প্রধান গেটের সামনের রাস্তায় শামিয়ানা টানিয়ে বুধবার সকাল ১১টায় ওই কর্মসূচি শুরু হয়। বৈগ্রাম, কাশিয়াডাঙ্গা, পাতরাপাড়া, কালুপাড়া, পাতিগ্রাম,
মৌপুকুর, জিগাগাড়ী, বাঁশপুকুর, কাজিপাড়া ও চৌহাটি গ্রামের প্রায় ৫০০
-->
বিস্তারিত
-- Delivered by Feed43 service
Posted in সমকাল.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
পাকিস্তান ক্রিকেট দলে ইউনুস ইউসুফ নিষিদ্ধ

স্পোর্টস ডেস্ক
পাকিস্তানের হয়ে আর কোনোদিন ক্রিকেট মাঠে দেখা যাবে না মোহাম্মদ ইউসুফ এবং ইউনুস খানকে। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রকাশ্যেই বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন তারা। সিরিজে টানা ৯ ম্যাচ হারের রেকর্ডের পর দলের বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে
পাকিস্তান.....
বিস্তারিত
-- Delivered by Feed43 service
Posted in সমকাল.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
কামরাঙ্গীরচরে আগুনে ১৫ টি ঘর পুড়ে গেছে
রাজধানীর কামরাঙ্গীর চরের মোহাম্মদনগরে আজ বুধবার রাতে অগ্নিকাণ্ডে একটি দোতলা টিনের বাড়ির ১৫টি ঘর পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আজ রাত আটটার দিকে মোহাম্মদনগরে দোতলা টিনের বাড়ির বাসিন্দা আবদুল কাদিরের ঘরে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহুর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দোতলা বাড়ির বাসিন্দারা সবাই দৌঁড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। এক পর্যায়ে আগুন দোতলায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে দোতলা বাড়ির নিচতলার ১০টি এবং দোতলার পাঁচটি ঘর পুড়ে যায়। কামরাঙ্গীরচর ও লালবাগের তিনটি ইউনিট সোয়া ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দমকল কর্মকর্তারা জানান, বৈদ্যুতিক শট সার্কিট...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
মিটফোর্ডে লেপ-তোশকের দোকানে আগুন, মালামাল পুড়ে ছাই
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার একটি লেপ-তোশকের দোকানে আজ বুধবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ রাত পৌনে আটটার দিকে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি ভবনসংলগ্ন একটি লেপ-তোশকের দোকানে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ওই দোকান ও দোকানের পেছনে থাকা গুদামঘরের সব মালামাল পুড়ে যায়। এ সময় আশপাশের ওষুধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। আশপাশের লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়।...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিচার করতে হবে: মওদুদ আহমদ
রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে সংসদে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা কাল বৃহস্পতিবার শেষ হবে। গত ৪ জানুয়ারি এ অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ভাষণ দেন। আজ বুধবার ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা দুই দফা ওয়াকআউট করেন। দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষণে ক্ষণে উত্তেজনা দেখা দিলেও সংসদ ছিল মোটামুটি প্রাণবন্ত। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের মওদুদ আহমদ বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিচার দাবি করে বলেন, দুর্নীতি দমনের নামে ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিনের সরকারের গুটিকয়েক সেনা কর্মকর্তা গভীর দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছিলেন। তাঁরা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
২৭ মার্চ চট্টগ্রামে প্রথম বিভাগীয় সমাবেশ করবেন খালেদা জিয়া

সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে জনসংযোগ শুরু করবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পর্যায়ক্রমে অন্য পাঁচ বিভাগেও জনসভা করবেন তিনি। দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে মার্চ ও এপ্রিল মাস জুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিরোধী দল। ১৮টি গ্রুপে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলায় জেলায়ও সফর করবেন। বিভাগীয় পর্যায়ে জনসভার পর ঢাকায় মহাসমাবেশের প্রস্তুতি রয়েছে বিএনপির। আজ বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে দলের চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারা বৈঠক করেন। এরপর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সভার...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কারও কাছে সিম কার্ড বিক্রি করা যাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কারও কাছে সিম কার্ড বিক্রি করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়ে এর সত্যতা যাছাই করবেন। নির্বাচন কমিশন জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যতা নিশ্চিত করলে, তবেই ওই গ্রাহক সিম কিনতে পারবে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধবিষয়ক একসভা শেষে সাহারা খাতুন সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। আজ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাহারা খাতুন আরও জানান, ১৮ বছরের নিচে কেউ মোবাইল ফোনের সিম কার্ড কিনতে পারবে না। এ ছাড়া ইতিমধ্যে নিবন্ধনবিহীন দুই লাখ...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
জিয়ার লাশ নিয়ে নৌমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে বিএনপির ওয়াকআউট
জিয়াউর রহমানের লাশ নিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বক্তব্যের প্রতিবাদে বিএনপি আজ বুধবার সন্ধ্যা সাতটায় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। কিছু সময় পরে তারা আবার সংসদে ফিরে আসে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে শাজাহান খান আবারও জিয়াউর রহমানের লাশের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘সংসদে লাশ নিয়ে কথা বলতে চাই না। শুধু বিরোধী দলের সদস্যদের বলতে চাই, আসুন না শেখ ফজলুল করিম সেলিমের দেওয়া বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখি। কবরে জিয়ার লাশ আছে কি না সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করি। শেখ সেলিম মিথ্যে বলে থাকলে তাও প্রমাণ হবে।’ তাঁর বক্তব্যের সময় সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
মুজাহিদ তখন ঘুমিয়েছিলেন!
গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের ওপর ইসলামী ছাত্রশিবিরের হামলার সময় শিবিরের নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করার কথা অস্বীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ। তিনি দাবি করেছেন, সেই রাতে শিবিরের সভাপতি রেজাউল করিম তাঁকে ফোন করলেও তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। পরদিন সকালে রেজাউলের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। আজ বুধবার বিকেলে বড় মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে মুজাহিদ এসব দাবি করেন। সাংবাদিকেরা ঘটনার রাতে জনাব মুজাহিদ মোবাইল ফোনে শিবিরের নেতাদের সঙ্গে...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
সন্ধ্যা ছয়টা থেকে প্রশিকা ভবন এলাকায় সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ
প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সামনের সড়ক ও ভবনটির আশপাশের সড়কে সব ধরনের সভা, সমাবেশ, জমায়েত ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আজ বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। আজ ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ কমিশনার শহীদুল হক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পল্লবী থানা এলাকায় প্রশিকা ভবন দখলকে কেন্দ্র করে অনেক দিন ধরেই দুই পক্ষের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরোধ চলছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, বাগিবতণ্ডাকে কেন্দ্র করে সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাই এ...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
কিবরিয়া হত্যা মামলার আসামি মিঠু ৭ দিনের রিমান্ডে
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামি মিজানুর রহমান মিজান ওরফে মিঠুকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে সিআইডি। সিআইডি পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে হবিগঞ্জের মুখ্য বিচারিক আদালতের হাকিম শামসুল ইসলাম আজ বুধবার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) গত রোববার মধ্যরাতে মিঠুকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার তাঁর বোনের বাড়ি থেকে আটক করে। মিঠুর ১০ রিমান্ড চেয়ে সিআইডি পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার আদালতে আবেদন জানায়। আদালত ওই দিন কোনো আদেশ না দিয়ে আজ রিমান্ডের ওপর শুনানি শেষে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময়...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
র্যাবের জনসংযোগ শাখার বক্তব্য
"নিখোঁজ র্যাব সদস্যকে খোঁজার সময় নেই র্যাবের!" সংবাদ শিরোনামের প্রতিবাদ জানিয়েছে র্যাব সদর দপ্তর।
Posted in বিডিনিউজ২৪.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
মইনকে সেনাপ্রধান করেছিলো কে: তোফায়েল
আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা তোফায়েল আহমদ বিএনপির কাছে জানতে চেযেছেন, একজনকে ডিঙিয়ে মইন উ আহমেদকে সেনাপ্রধান করেছিল কে?
Posted in বিডিনিউজ২৪.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
আবারো শিরোপা রাজশাহীর
জাতীয় ক্রিকেট লিগে শিরোপা অক্ষুণ্ন রেখেছে রাজশাহী বিভাগ। বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে পাঁচদিনের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হলেও প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকায় শিরোপা ধরে রাখে রাজশাহী।
Posted in বিডিনিউজ২৪.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
আবাহনীর জয়, শেখ রাসেলের ড্র
বাংলাদেশ লিগ ফুটবলের একাদশ রাউন্ডেও বুধবার ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ঢাক আবাহনী। এতে চির-প্রতিদ্বন্দ্বী ঢাকা মোহামেডানের চেয়ে তারা সাত পয়েন্টে এগিয়ে গেলো।
Posted in বিডিনিউজ২৪.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
সাবেক আইজিপি খোদা বখসের অবসর অনুমোদন
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (চলতি দায়িত্ব-আইজিপি) খোদা বখস চৌধুরীর স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন অনুমোদন করেছে সরকার।
Posted in বিডিনিউজ২৪.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
অবসরের ঘোষণা দিয়ে বোর্ডকে চিঠি দিয়েছেন রকিবুল

জাতীয় ক্রিকেট দলের ব্যাটসম্যান রকিবুল হাসান সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অব্যাহতি চেয়ে আজ বুধবার ক্রিকেট বোর্ডকে চিঠি দিয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘রকিবুলের চিঠি আমরা পেয়েছি। তবে এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁকে বোঝানোর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু রকিবুল তাঁর সিদ্ধান্তে অটল।’ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১২ মার্চ থেকে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠেয় টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন রকিবুল হাসান।
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
রাজধানীর পাশে চারটি স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজধানীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আবাসন সংকট নিরসনে ঢাকা শহরের চারপাশে চারটি স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলা হবে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উদ্যোগে এসব স্যাটেলাইট টাউনে সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে। এসব শহরে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের জন্য বিভিন্ন আয়তনের ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে গোলাম দস্তগীর গাজীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তবে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হওয়ায় কোনো সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ ছিল না। স্পিকার আবদুল...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
আমরণ অনশনে বড়পুকুরিয়ার ক্ষতিগ্রস্তরা
দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জমি অধিগ্রহণ করে ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবিতে বুধবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছে স্থানীয়রা।
Posted in বিডিনিউজ২৪.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
জামায়াত নেতা ইউসুফের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা
মুক্তিযোদ্ধা হত্যার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা আবুল কালাম মুহম্মদ ইউসুফসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে বাগেরহাটের একটি আদালতে মামলা হয়েছে।
Posted in বিডিনিউজ২৪.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
দ্বিতীয় দফায় ওয়াকআউট
আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সাংসদ তোফায়েল আহমদের এক বক্তব্যের প্রতিবাদে বুধবার সংসদ অধিবেশনের শেষ দিকে রাত ৯টা ৫ মিনিটে বেরিয়ে গেছে বিএনপি।
Posted in বিডিনিউজ২৪.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
৭ উপসচিব বদল
প্রশাসনের সাতজন উপসচিব এবং সাতজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদে রদবদল করা হয়েছে।
Posted in বিডিনিউজ২৪.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
‘নিখোঁজ সদস্যকে’ খোঁজার সময় নেই র্যাবের!
নয় মাস ধরে 'নিখোঁজ' নূরনবী চৌধুরী নামে র্যাবের এক কনস্টেবলকে খোঁজার সময় পাচ্ছে না র্যাব।
Posted in বিডিনিউজ২৪.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০
হাসিনার নাইকো দুর্নীতি মামলা বাতিলের রায় কাল

নাইকো দুর্নীতি মামলা বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার করা আবেদনের ওপর কাল বৃহস্পতিবার রায় দেওয়া হবে। আজ বুধবার প্রথম দিনের মতো শুনানির পর বিচারপতি মো. শামসুল হুদা ও বিচারপতি মো. আবু বকর সিদ্দিকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শুনানি বেলা ১১টায় শুরু হয়, মাঝখানে এক ঘণ্টার বিরতিসহ চলে বিকেল চারটা ১০ মিনিট পর্যন্ত। শেখ হাসিনার আইনজীবী শেখ ফজলে নূর তাপস পরে সাংবাদিকদের জানান, আদালত বিষয়টি কাল আংশিক শুনানি শেষে রায়ের জন্য রেখেছেন। শেখ হাসিনার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন রফিক-উল হক ও শেখ ফজলে নূর তাপস। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।...
Posted in প্রথম আলো.
Comments Off
– মার্চ ১০, ২০১০